কলকাতাপশ্চিমবঙ্গশিরোনাম এই মুহূর্তে

পুজোর মুখে অশনি সংকেত ঢাক বাদ্যদের –

সংবাদ ভাস্কর নিউজ ডেস্ক : শারদ উৎসবে ঢাকে কাঠি পড়ে গেছে । করোনার আবহের মধ্যে মানুষ যেন নিজের চেনা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে । দুর্গাপুজোর মত বড় উৎসব কে আয়োজন করার অনুমতি দিয়ে দিয়েছে সরকার । তাই আস্তে আস্তে পূজা মার্কেটিংয়ের ভিড় বাড়ছে । ধর্মতলা থেকে গড়িয়াহাট , শপিং মল থেকে জুতোর দোকান সর্বত্রই যেন সেই চেনা ছন্দ । আস্তে আস্তে সমস্ত এলাকার পুজো প্যান্ডেল গড়ে উঠছে ।

কিন্তু তা সত্বেও যেন কোথাও একটা খামতি থেকে যাচ্ছে । পুজোর সময় পুরোহিতের হাতের দোলাতে যেরকম কাসর-ঘন্টা বেজে ওঠে , তেমনি ঢাকিদের ঢাকে কাঠির আওয়াজও কিন্তু আমাদের মনের সাথে সাথে শরতের আকাশকেও মুখরিত করে তোলে । কিন্তু এবছর সেই ঢাকে কাঠি শোনা যাবে কিনা তা নিয়ে কোথাও একটা যেন খটকা লেগেই থাকছে । পূর্ব মেদিনীপুর ,মহিষাদল , এগরা , তমলুক থেকে প্রায় ১০০০ জন ঢাকি কলকাতায় পাড়ি দেয় নিজেদের রোজগারের জন্য । কিন্তু করোনা আবহের জেরে বছরের এই চারটে দিনের রোজগার করা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয় । রাজ্য সরকার ট্রেন চালানোর অনুমতি দেয়নি । তাই এবার পুজো উদ্যোক্তারাও আসেনি বায়না দিতে ।

মহিষাদলের ঢাকি সহদেব পণ্ডিত বলেন , “আমি ৩০ বছর ধরে ঢাক বাজাচ্ছি । পুজোর সময় কলকাতায় ঢাক বাজাতে যেতাম । এবার ট্রেন না চললে কিভাবে কলকাতায় যাব , তা জানিনা ।” আর এক ঢাকি শ্যামল বারিক বলেন , “লকডাউন থেকেই আর্থিক সমস্যার মধ্যে আছি । আশায় ছিলাম পুজোর সময় সমস্যা হয়তো একটু মিটবে । কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো বায়না হয়নি ।”

হতাশ সিমলাপাল এর গণেশ কালিন্দী , তরুণ কালিন্দীরা । গণেশ কালিন্দীর মতে , “সরকার পুরোহিতদের ভাতার ব্যবস্থা করলেন , ক্লাবগুলোকে আর্থিক সাহায্য করলেন , অথচ আমরা উপেক্ষিত রয়ে গেলাম ।” সুতরাং এবছর ঢাকি পাড়ার ঢাকিদের কলকাতায় এসে প্যান্ডেলে ঢাক বাজানোর ইচ্ছাটা বোধহয় পূরণ করার জন্য মা দুর্গার আশীর্বাদ এর প্রয়োজন আছে ।

SRC

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button