দুর্গাপুরদেশের খবরশিরোনাম এই মুহূর্তে

সারা ভারতব্যাপী ২৬ এর বনধ আসানসোল – দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে আংশিকভাবে স্বার্থক

বৃহস্পতিবার আসানসোল – দুর্গাপুর

সংবাদ ভাস্কর নিউজ :শিল্পাঞ্চলে বাম ও কংগ্রেসের ডাকা ভারত বনধের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার দেখা মিললো | এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই আসানসোল ও দুর্গাপুরের বিভিন্ন জায়গায় বাম ও কংগ্রেস সমর্থকদের রাস্তায় নেমে বনধ সমর্থন করতে দেখা যায় |

শহরের বিভিন্ন রাস্তায় রাস্তায় বাম ও কংগ্রেস এর কর্মী সমর্থকদেরকে একত্রিত ভাবে বনধ সমর্থন করতে দেখা যায় | এদিন দুর্গাপুরের রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন বাঁকুড়া মোড় , দুর্গাপুর গ্যারাজ মোড় , ডিভিসি মোড় বিভিন্ন জায়গায় বাম ও কংগ্রেস এর কর্মী সমর্থকদের বনধের সমর্থন করতে দেখা যায় | বিশেষ করে এদিন সিপিআইএম কর্মী সমর্থকদেরকে বনধের সমর্থন করতে এক প্রতিবাদী রূপে দেখা যায় | বামেদের ছাত্র যুব থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মকে এদিন এক বৃহৎ প্রতিবাদী রূপে দেখা যায় বনধ সমর্থন করতে |

একইসাথে এদিন দুর্গাপুরে বনধের সমর্থনে বামেদের ২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শহর দুর্গাপুর | এদিন বনধের সমর্থন করতে ২ নন্বর জাতীয় সড়কের উপড় বাম কর্মী সমর্থকেরা হঠাতই বসে পড়ে | যার জেরে ক্ষনিকের মধ্যেই এক রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ওই এলাকা |

ফলে ঘটনাস্থলে দুর্গাপুর নিউ টাউনশিপ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী বনধ সমর্থকদের হটানোর চেষ্টা করে , কোনো প্রকারেই তাদেরকে হঠাতে না পেরে পুলিশের সাথে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয় বাম কর্মী সমর্থকদের সাথে নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশের | এক সময় পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় , যে বাম কর্মী সমর্থকদের উপড় নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ ব্যাপক ভাবে লাঠি চার্জ করে |

যার জেরে একাধিক বাম কর্মী সমর্থকেরা পুলিশের বেপরোয়া লাঠির আঘাতে আহত হয় | একইসাথে এই দিন সিপিআইএম পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য পঙ্কজ রায় সরকার পুলিশের লাঠির আঘাতে গুরুতর ভাবে আহত হয় | এই ঘটনার পরিস্থিতি এতোটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে , পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় কম্ব্যাক্ট ফোর্স | এই ঘটনায় এদিন পুলিশ প্রায় ৬০ জন বনধ সমর্থকদের গ্রেফতার করে | সিপিআইএম পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য পঙ্কজ রায় সরকার অভিযোগ করেছেন বিনা কারণে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ লাঠি চালালো , যার হাত থেকে তিনিও বাঁচলেন না ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে তার জামাকাপড় আঘাতও পেয়েছেন তিনি হাতে। প্রায় আধঘন্টা পরে ২ নম্বর জাতীয় সড়ক যানজটমুক্ত করা হয় | তবে এদিন ধর্মঘটে আসানসোল – দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল এর সর্বত্র সরকারী ও বেসরকারী অফিসে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল নেহাতই আংশিক |

একইসাথে শহরে গণ পরিবহনও ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকাংশেই কম , শহরের বড় বড় বাজারগুলিও ছিল একপ্রকার আংশিকভাবে বন্ধ | এক কথায় বলতে গেলে ২৬ শে এর বাম ও কংগ্রেসের ডাকা ভারত বনধ আসানসোল – দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে একপ্রকার মিশ্র প্রভাব ফেলেছে এমনটা বলা যেতেই পারে |

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button