-Advertisement-

দুর্গাপুরে সিপিআইএমের কালা দিবস পালন , জনজোয়ার দেখে স্তব্ধ বিরোধীরা –

দুর্গাপুর শিরোনাম এই মুহূর্তে

সংবাদ ভাস্কর নিউজ ডেস্ক : চলতি আগষ্ট মাস শিল্পনগরী দুর্গাপুরের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। শিল্পশ্রমিক আন্দোলনে দুর্গাপুরের আগষ্ট আন্দোলন ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়। ১৯৬৬ সালের ৫-ই আগস্ট দুর্গাপুর ইস্পাতের সামনে উত্তাল বিক্ষোভে শহীদ হন আব্দুল জব্বর। ৬-ই আগষ্ট ইস্পাত কলোনীর ডি -সেক্টর মার্কেটে পুলিশের গুলির অভ্রান্ত নিশানায় শহীদ হন আশীষ দাশগুপ্ত। এই ঘটনা দুর্গাপুরে জ্বেলে দিল দহনের আগুন। শ্রমিক বিক্ষোভ, কৃষক বিক্ষোভের সম্মলিত প্রতিবাদ ব্যাপক গণবিক্ষোভের রূপ নিল সেই থেকেই ।

-Advertisement-

যার ফলশ্রুতি ১৯৬৭-র প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকার। ১৯৭০ সাল। মার্চ মাসে ভেঙ্গে দেওয়া হয় বাংলার প্রথম অকংগ্রেসী যুক্তফ্রন্ট সরকার। কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার,আন্দোলনের অধিকার, শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার। আবার গর্জে ওঠে দুর্গাপুরের মানুষ,গণতান্ত্রিক চেতনার দীপ্ত শলাকা জ্বেলে আবার উত্তাল দুর্গাপুর। ১২-ই আগষ্ট থেকে ২২-শে আগষ্ট ১১ দিনের লাগাতার ধর্মঘটে স্তব্ধ হয়ে যায় দুর্গাপুর। শুধু শোনা যা অধিকারের দাবীর দৃপ্ত স্লোগান আর পুলিশের ভারী বুটের শব্দ। ২০১৭ সাল।

বাংলায় তৃনমূল কংগ্রেসের সরকার। ১৩-আগষ্ট, দুর্গাপুর নগর নিগমের নির্বাচন। মুখ্যমন্ত্রী বললেন, নগর নিগমের ৪৩ টা আসনই তাঁর চাই। দুর্গাপুরের তৃণমূল নেতৃত্বের উপর ভরসা না রেখে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন আসানসোলের মন্ত্রী নেতারা। শুধু পশ্চিম বর্ধমান নয়,আশেপাশের জেলাগুলো এমনকি ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে নিয়ে আসা হলো ভয়ংকর সমাজবিরোধীদের। ১২-আগষ্ট মধ্যরাত্রি থেকেই শুরু হয়ে গেল তাদের অপারেশন। সিদ্ধার্থ জমানার পর দুর্গাপুরের মানুষ দেখলো আরও একটা নির্লজ্জ নির্বাচনী প্রহসন। সিপিএম নেতৃত্বের কথায় নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই এলাকায় এলাকায় শুরু হয়ে গেল সন্ত্রাস। গুণ্ডা বাহিনী পুলিশের প্রত্যক্ষ মদতে লুঠ হয়ে গেল মানুষের ভোটাধিকার। এমনকি এরকমটাও দেখা গেল কোথাও কোথাও উৎসাহের আতিশয্যে লোকাল থানার ও.সি. নিজেই মেসিন দখল করে তৃণমূলের পক্ষে ছাপ্পা দিতে শুরু করলেন। কোথাও কোথাও দেখা গেল সাধারন মানুষ তো দূরের কথা তৃণমূলের নেতা,নেত্রী এমনকি প্রার্থীরাও নিজের ভোটটা নিজে দিতে পারলেন না। এমনকি কোথাও কোথাও মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বদলে দেওয়া হল আসল ফলাফল। পুলিশ, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতে সংবাদ মাধ্যমের চোখের সামনে ঘটে গেলো এক কলঙ্কময় দৃশ্যনাট্য, ধর্ষিত হলো গণতন্ত্র। বামেদের অভিযোগ ” চুরি করে প্রতিষ্ঠিত হলো চোরেদের নগর নিগম “। তাই ” কালা দিবস “। বামপন্থীরা, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) -র ডাকে আজ ১৩-ই আগষ্ট দুর্গাপুর জুড়ে পালন করা হল কালা দিবস। সিটি সেন্টারে দুর্গাপুর নগর নিগমের মূল প্রবেশপথের সামনে সিপিআই(এম) এর ডাকে অনুষ্ঠিত হয় ব্যপক বিক্ষোভ সমাবেশ। সভাপতিত্ব করেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ও প্রাক্তন বিধায়ক বিপ্রন্দু চক্রবর্তী, বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়, জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য পঙ্কজ রায় সরকার। বক্তাদের কথায়, চুরি করে নগর নিগমের ক্ষমতায় আসা এই পৌরবোর্ড দুর্গাপুরের মানুষকে পরিসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যত ব্যর্থ। এরা শুধু কাটমানি সংগ্রহ করে দলীয় তহবিল আর নিজেদের তহবিল ভরাতে ব্যাস্ত। মেয়র প্রকাশ্যে তার কাউন্সিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন, কাউন্সিলাররা অভিযোগ করছেন মেয়রের বিরুদ্ধে। এমনকি মেয়র বলছেন, এডিডিএ সব টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছে,উন্নয়ন হচ্ছে আসানসোলে, বঞ্চিত হচ্ছে দুর্গাপুর। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে গেছে কোন কোন মেয়র পারিষদ রাগ করে নগর নিগমে পা রাখছেন না, কোন কাজকর্মও করছেন না। বালিতে কাটমানি,কয়লায় কাটমানি, লোহায় কাটমানি, টোলে কাটমানি,টেণ্ডারে কাটমানি – কাটমানির হরির লুঠ চলছে দুর্গাপুর জুড়ে। অথচ এই করোনা আবহে যখন পরিসেবার ক্ষেত্রে নগর নিগমকে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন তখন আগষ্ট মাস জুড়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে নগর নিগমের অফিস,স্তব্ধ সব কাজ। বাম-কংগ্রেসের ভোটে জেতা বিধায়ক দলবদল করে এখন আবার তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি। তিনি বলছেন, করে খাওয়া লোকেদের নাকি তৃণমূল ছাড়তে হবে। বাম নেতাদের প্রশ্ন দুর্গাপুরের মানুষদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে তিনি কোন চুক্তিতে, কোন প্রতিশ্রুতিতে, কি করে খেতে তৃণমূলে গিয়েছেন? এই চোরেদের রাজত্বে থাকতে থাকতে সারা বাংলার মতো দুর্গাপুরের মানুষও এবার জেগে উঠছে। তাদের জীবনের জ্বলন্ত সমস্যা তাকে বাধ্য করছে ভয় ভীতি দূর করে প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে। বামপন্থী ঐতিহাসিক আগষ্ট আন্দোলনের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুর ১৩-ই আগষ্টের “কালা দিবস” পালনের সাথে সাথে ক্রমশঃ সঙ্ঘবদ্ধ গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েই পাল্টে দেবে শাসকের ঔদ্ধত্যের ইতিহাস।

-Advertisement-
Share this page:

Leave a Reply

Your email address will not be published.

-Advertisement-