-Advertisement-

দুর্গাপুরে বাসযোগ্য এলাকায় বেকারি কারখানা চালানোর অভিযোগ দুর্গাপুরের নামি কেক – পেস্ট্রি প্রস্তুতকারক ‘ আলিস ‘ এর বিরুদ্ধে :

দুর্গাপুর

সংবাদ ভাস্কর নিউজ : বসবাসের জন্য বরাদ্দ করা ADDA-‘র জমিতে পুরোদস্তুর কারখানা তৈরী করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আলী’জ। দুর্গাপুর শহরের নবীন এই বেকারী ব্রাণ্ডকে নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। তদন্তে নামছে রাজ্য সরকারের একটি সংস্থা।
বেকারী মালিক শেখ মোস্তাফা আলি বসবাসের জমির বানিজ্যিক ব্যবহারকে অনৈতিক বলে মানতে চাইছেন না। আলী’জ-এর এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আমিরুল সিদ্দিকীর বক্তব্য “যে কোন রকম তদন্তে আমরা সরকারকে পুরোপুরি সহায়তা করতে রাজী আছি। সমস্ত রকমের সরকারী অনুমতি ও লাইসেন্স নিয়েই আমরা কারখানা করে ব্যবসা করছি।”
সিটি সেন্টারের অম্বুজা উপনগরীতে অভিজাত এলাকা ইস্ট এ্যভিন্যুতে ২০০৪ সালে শাহনাজ বেগমকে বসবাসের জন্য ৩ কাঠা জমি বরাদ্দ করে ADDA। প্রথমে সেখানে বাড়ী করে পরিবার সহ বসবাস করতেন শাহনাজ বেগম।

-Advertisement-

কিন্তু ২০১৬ সালে বসবাসের সাথে সাথে কার্যত আলী’জ নামে একটি পুরোদস্তুর বেকারী ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট বানিয়ে ফেলেন তিনি এবং শেখ মোস্তাফা আলী। উৎপাদনও অচিরেই শুরু হয়ে যায়। প্রথম অবস্থায় ছোট করে কেক-পেস্ট্রি তৈরী হলেও ক্রমে তাকে পুরোদস্তুর বেকারী ইউনিটে রূপান্তরিত করা হয়। এরপরেই তৈরী হয় সমস্যা। কারখানার কর্মকাণ্ডে, বড় বড় মেশিনারিজ এর ওঠানামায়, গাড়ীতে নিয়মিত মাল লোডিং-আনলোডিং এর যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে ADDA, DMC, মহকুমা প্রশাসনের কাছে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করা হয় যে, বসবাসের জন্য বরাদ্দ করা জমিকে অনৈতিক ও বেআইনি ভাবে কারখানা তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

“সিটিজেন্স অফ বেঙ্গল অম্বুজা”-‘র পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়। জনৈক এম. সাহা-‘র স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে বলা হয় তারাশঙ্কর বীথী, অম্বেদকর সরণি, উর্বসী কমপ্লেক্সের ২৮, ৩০, ৩২, ও ৩৪ নং স্ট্রীটের বাসিন্দাদের আপত্তি আছে ঐ R.A. 24 নং বাড়ীতে কারখানা করা নিয়ে। অভিযোগ পাওয়ার পর DMC, ADDA আলাদা করে তদন্ত করবে বলে জানা গেছে। পুর কমিশনার পুষ্পেন্দু মিত্রের কথায়, “বসবাসের জন্য দেওয়া নির্দিষ্ট জমিতে কেউ বিনা অনুমতিতে কারখানা করতে পারে না।আমরা এটার তদন্ত করবো।” অথচ দেখা যাচ্ছে DMC-ই আলী’জ কারখানার জন্য ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করেছে ওই R.A.-24 নং বাড়ীর ঠিকানায়।

-Advertisement-

“তবে কি সর্ষের মধ্যেই ভূত আছে! এখানেও কি গোপনে হয়েছে কাটমানির খেলা!” নাহলে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে সরকারী সংস্থাগুলো আলী’জ-এর পক্ষে বিভিন্ন রকম লাইসেন্স ইস্যু করলো কিভাবে! আর কেনই বা এতদিন ধরে বসবাসের জমিতে গড়ে ওঠা কারখানা প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে গেল! সন্দেহের অবকাশ রয়ে গেছে সংস্থার অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আমিরুল সিদ্দিকীর কথাতেই। তাঁর কথায়, ” তিন বছর আগে এখানকার বাসিন্দারাই নগর নিগমকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, টাটকা কেক, রুটি পাওয়ায় তাদের সুবিধা হয়েছে এই কারখানার জন্য, তাই নগর নিগম আমাদের ট্রেড লাইসেন্স দেয়। হঠাৎ কিছু লোকের কি সমস্যা হল ঠিক বুঝতে পারছি না।

-Advertisement-

” তাঁর কথা তলিয়ে দেখলে বুঝতে অসুবিধা হয় না কারখানা খুলে উৎপাদন শুরু হওয়ার পর কারো পরামর্শে কোন একটি চিঠি জমা করিয়ে তার ভিত্তিতে আইনকে ভেঙ্গে বা এড়িয়ে আলী’জ-এর অনুকুলে লাইসেন্স ইস্যু করা হয় সরকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এখন দেখা যাক সরকার এই বেআইনি কারখানার লাইসেন্স বাতিল করে কিনা আর তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করে কিনা। এরকমটা না হলে তাঁরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দিকেও এগোতে চান।

Share this page:

Leave a Reply

Your email address will not be published.

-Advertisement-